অফিসে আমাদের সবারই অনেকসময় মনে হয় সঠিক দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আমি ভালভাবে কাজ করতে পারছি না। অফিসের আর সবাই তাদের কাজ নিখুঁতভাবে করছে, কিন্তু আমি পারছিনা। কি যেন একটা মিসিং মনে হচ্ছে। তাই আজকে আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু টিপস্‌ শেয়ার করছি যা আমি ব্যবহার করি যখন অফিসে কাজ করতে আমার সমস্যা হয়।

৯টি ছোট্ট উপায় যা আপনাকে অফিসে ভাল বোধ করতে সাহায্য করবে - Bangalista

bad res ১. নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলুন

সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারেন, কিন্তু তাকে সমালোচনা না মনে করে তাকে প্রশংসা হিসাবে গ্রহণ করুন। গঠনমূলক সমালোচনা আপনাকে শক্ত হতে সাহায্য করে। একইভাবে, কলিগ বা বন্ধুদের থেকে নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলুন। সবসময় খুশি থাকা এবং হাস্যোজ্জ্বল থাকা আমার জন্য খুব ভালভাবে কাজ করে। এবং মানুষ সাধারণত, ব্যক্তিত্বশীল এবং হাস্যোজ্জল ব্যক্তি পছন্দ করে। তাই হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন!

২. নিজের উপর মনোযোগী থাকা

নিজের প্রতি নিজেকেই খেয়াল রাখতে হবে, তাই নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখা এবং নিজের উন্নতি ট্র্যাক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা আপনাকে নিয়োগ দিয়েছে তাদের অনেক ব্যস্ত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক এবং তাই আপনাকে পরামর্শ দেয়ার মত সময় বা আপনাকে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার সময় তাদের কাছে সবসময় নাও থাকতে পারে। এজন্য কর্মক্ষেত্রে নিজের উন্নতির দায়ভার নিজেকেই নিতে হবে।

৩. অফিসের খোঁজখবর রাখুন

সাধারন বিষয়গুলো যদি না জানা থাকে এবং এর উপরই যদি আপনাকে পরীক্ষিত করা হয়, তাহলে নিজের কাছেই খারাপ লাগে। তাই নিজে থেকে উদ্যোগ নিন যাতে নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে পারেন। কোন বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সহকর্মীকে জিজ্ঞেসা করুন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করুন। যখন সময় আসবে তখন তারাও আপনাকে আপনার কাজের জন্য প্রশংসা করবে। এবং এরপর যখন আপনাকে কোন প্রশ্ন করা হবে তখন আপনার প্রস্তুতি দেখে সবাই মুগ্ধ হবে।

৪. পেশাগত সাহসিকতা ধারণ করা

অতীতে আমি এমন অনেক চাকরী করেছি যেখানে কোন অপ্রীতিকর কথা বলিনি, শুধুমাত্র দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার জন্য। কিন্তু এর ফলে আমি কখনই সেসব চাকরীতে খুশি ছিলাম না। কর্মক্ষেত্রের সমস্যার সাথে বাইরের সমস্যা মিলানো ঠিক না, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে সেটা নিয়ে অবশ্যই কথা বলতে হবে। প্রোফেশনালিজম বজায় রেখেও কর্মক্ষেত্রে যেকোন সমস্যা নির্মূল করা যায়।যদি অফিসে কোন কিছু আপনার ভুল মনে হয়, রেইজ ইয়োর ভয়েস।

৫. বন্ধু তৈরি করুন

যখন কোন জায়গায় আপনি নতুন চাকরী শুরু করবেন, সেখানে বন্ধু তৈরি করা খুবই কঠিন একটি কাজ। এই কাজটি কঠিন হওয়ার কারণ আপনি একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবারের অংশ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আপনি এই চেষ্টাই সফল হলে আপনারই সুবিধা হবে এবং নিজের কাজের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সবার সাথে আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন ও কারো সাহায্য প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় হাত বাড়িয়ে দিন।

৬. নিজের গুণাবলি জানুন

কর্মক্ষেত্রে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য নিজের গুণাবলি ও দক্ষতা সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের গুণাবলি  সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকলে নিজের কাজের সুবিধা হবে এবং পাশাপাশি অন্যরা আপনার উপর বিশ্বাস করতে পারবে এবং আপনার কাজের দ্বারা প্রভাবিত হবে। নিজের গুণাবলি জেনে কাজ করা কর্মক্ষেত্রে খুবই কার্যকারী।

৭. নিজের দুর্বলতা মেনে নিন

নিজের দুর্বল দিককে লুকিয়ে রাখা যায় না, আপনি লুকিয়ে রাখলেও তা ঠিকই অন্যদের চোখে পড়ে। তাই ভাল হয় যদি নিজের দুর্বল দিকগুলো যদি নিজে থেকেই চিহ্নিত করুন এবং তা শুধরানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে অন্যদেরকে জিজ্ঞেসা করুন, এতে কোন ক্ষতি নেই। এর ফলে আপনার দক্ষতা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি নিজের ব্যাপারে ভাল বোধ করবেন।

৮. অবসর সময়কে পুরোপুরি উপভোগ করুন

অবসর সময় কাটানোর জন্য বন্ধুদের সাথে কথা বলুন, বেরিয়ে পড়ুন, যেতে পারেন পছন্দের কিছু খেতে। নিজের মত বিশ্রাম করুন এবং নিজেকে সময় দিন যাতে ব্যক্তিগত জীবনের ঝামেলা কাজের উপর প্রভাব না ফেলে। যখন অবসর শেষ হয়ে যাবে, তখন অফিসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করার জন্য আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন।

৯. নিজের কাছে ভাল থাকুন

আমরা নিজেরাই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক। এর ফলে মাথার মধ্যে সব সময় নেতিবাচক চিন্তা হয়। এটা বদলাতে হবে! আজকের দিন এবং আগামীর সব দিনগুলোকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করার জন্য আপনি নিজেই যথেষ্ট। তাই নিজের প্রতি ভরসা রাখুন এবং ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করুন। নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন এবং সফলতা আসবেই।

[thb_gap height=”50″]

Related Articles

[thb_gap height=”35″][thb_postcarousel style=”style3″ columns=”5″][thb_gap height=”50″][thb_instagram style=”style2″ columns=”5″ link=”true” column_padding=”false” low_padding=”false” number=”9″]